সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের নলতা ডাইবেটিক এন্ড জেনারেল হাসপাতালের এক সিজারকৃত রোগীর ক্ষতস্থানে ইনফেকশন হলেও তাকে চিকিৎসা না দিয়ে দুর্ব্যবহার করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতাল
কর্তৃপক্ষ ও কর্তব্যরত ডাঃ নাসরিন নাহার এর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ ও শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জেন বরাবর অভিযোগ করলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা পক্ষপাত মূলক প্রতিবেদন দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পুনঃ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার বিবরণে ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা যায়, দেবহাটা উপজেলার ঘোনাপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ ওমর ফারুকের স্ত্রী জাফরিন গত ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে নলতা ডাইবেটিক এন্ড হাসপাতালে দায়িত্বরত ডাঃ নাসরিন নাহারের নিকট হইতে সিজার অপারেশন করান। কয়েকদিন পর অপারেশনের স্থানে ইনফেকশন সহ অন্যান্য অনেক সমস্যা দেখা দেয়। পরবর্তীতে নলতা ডাইবেটিক এন্ড জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তার নাসরিন নাহারের কাছে গেলে তিনি পুনরায় আবারো অপারেশন করানোর কথা বলেন। দ্বিতীয়বার অপারেশন করার পর কাটা স্থানে একই অবস্থায় ইনফেকশন দেখা দেয়। পরবর্তীতে আবারও উক্ত ডাক্তারের নিকট গেলে তিনি কোন চিকিৎসা না দিয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে চিকিৎসা দিতে পারবে না বলে অস্বীকৃতি জানান।
জাফিনের স্বামী ওমর ফারুক জানান, আমার স্ত্রীকে নলতা ডাইবেটিক এন্ড জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তার নাসরিন নাহার এর নিকট থেকে সিজার করানোর পর ইনফেকশন বাড়তে থাকে,হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ডাক্তার ম্যাডামকে বিষয় টি নিয়ে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও সেখান থেকে কোন চিকিৎসা না পেয়ে পরবর্তীতে সাতক্ষীরা সদরের বুশরা হাসপাতালে ডাক্তার শরিফুল ইসলামকে দিয়ে আবারো অপারেশন করানো হয়। বর্তমানে আমার স্ত্রী আল্লাহর রহমতে অনেক ভালো আছে। এ ঘটনায় আমি আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত।
নলতা ডায়াবেটিস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ডাক্তার নাসরিন নাহার আমার স্ত্রীকে ভুল চিকিৎসা দেওয়ার কারণে আজ আমি আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তারা কোনভাবে আমার সঙ্গে যোগাযোগ না করায় আমি বাধ্য হয়ে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করি। পরবর্তীতে সিভিল সার্জন অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের জন্য কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তার দায়িত্ব দেন। তিনি অনেক তাল বাহানার পর আমাদের নিকট থেকে একটি লিখিত বক্তব্য নেন। পরবর্তীতে দেখি তদন্তকারী কর্মকর্তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ডাক্তারের নিকট থেকে ম্যানেজ হয়ে তাদের পক্ষে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। আমি আবারও পুনঃ তদন্তের দাবী জানাচ্ছি।
বিষয়টি নিয়ে নলতা ডাইবেটিস অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনা জানতে ডাক্তার নাসরিন নাহার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।