জিএম মাকছুদুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কাদের জিলানীর ছেলে কুদ্দুস মিয়া নামে এক কবিরাজের কাছে ছোট বোনকে জিন ছাড়াতে গিয়ে ধর্ষনের শিকার হয়েছে উপজেলার ফুলতলী গ্রামের শারমিন আক্তার মিম(১৯) নামে এক গৃহবধূ৷ এই ঘটনায় ভিক্টিমের মা জোসনা বেগম ২০ অক্টোবর (সোমবার) দেবিদ্বার থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৩০ জুন সকালে শারমিন তার ছোট বোন নাসরিন আক্তারকে জিন ছাড়াতে কবিরাজ কুদ্দুস মিয়ার বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে কুদ্দুস নানা প্রলোভন দেখিয়ে তাকে বসতঘরের একটি গোপন কক্ষে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং ভিডিও ধারণ করে। এরপর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভিক্টিমের কাছ থেকে প্রায় এক লক্ষ পঁইতাল্লিশ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। দীর্ঘদিন ধরে ভয় দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করে এবং পরবর্তীতে আরও মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে।ভিক্টিম শারমিন আক্তার মিম সাংবাদিকদের বলেন, “কুদ্দুস প্রথমে চিকিৎসার নামে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্টাম্পে আমার স্বাক্ষর নেয়। পরে একদিন আমাকে জোর করে ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে আমার ইমুতে পাঠায় এবং টাকা দাবি করে। আমি বিভিন্নভাবে টাকা দিলেও সে একাধিকবার জোর করে সম্পর্ক করেছে। পরে আমার ভাইকে বিদেশ পাঠানোর নাম করে আরও ৩ লাখ টাকা নেয়। টাকা ফেরত চাইলে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখায় এবং শেষমেশ আমার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকদের কাছে ভিডিও পাঠিয়ে দেয়।”
ভিক্টিমের মা জোসনা বেগম বলেন, “ভণ্ড কবিরাজের ফাঁদে পড়ে আমার তিনটি পরিবার ভেঙে গেছে। আমি তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।” এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ইদ্দিস মিয়া জানান, “ঘটনার বিষয়টি আমরা জেনেছি। দুই পক্ষকে নিয়ে সামাজিক সালিশের আহ্বান জানিয়েছিলাম, কিন্তু মেয়ের পক্ষ আসেনি।”অন্যদিকে দেবিদ্বার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মঈনউদ্দিন বলেন, “ভিক্টিমের মায়ের লিখিত এজাহার পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে অভিযুক্ত কবিরাজের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”