গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধর, হত্যাচেষ্টা ও ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্ত্রী শারমিন আক্তার (২৫) শ্রীপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে শারমিন আক্তার জানান, প্রায় ১০ বছর আগে ইসলামী শরীয়া মতে ও আদালতের হলফনামার মাধ্যমে পারভেজ আহম্মেল রুবেল (২৮)-এর সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়। দাম্পত্য জীবনে তাঁদের ৫ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর পিতার বাড়ি থেকে ফার্নিচার তৈরির জন্য দেড় লাখ টাকা আনা হয় এবং ব্যবসার উদ্দেশ্যে এক ভরি স্বর্ণালংকার (মূল্য আনুমানিক দুই লাখ টাকা) বিক্রি করে স্বামীকে দেওয়া হলেও তিনি তা অপচয় করেন বলে অভিযোগ।
শারমিনের দাবি, সম্প্রতি তাঁর স্বামী মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন, অনলাইনে জুয়ায় আসক্ত হন এবং পরনারী আসক্ত হয়ে বিভিন্ন সময় নির্যাতন চালান। পাশাপাশি দ্বিতীয় বিবাহের অনুমতি আদায়ের জন্য পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে মারধর শুরু করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৪ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে স্বামী পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করলে দিতে অস্বীকৃতি জানালে লোহার রড দিয়ে মারধর করে নিলাফুলা জখম করেন। এ সময় স্ত্রী ও কন্যাকে পুড়িয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরে সয়াবিন তেল ঢেলে দেওয়া হয় এবং বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয়। আশপাশের লোকজনের চিৎকারে তিনি রক্ষা পান।
পরদিন ১৫ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে পুনরায় যৌতুক দাবি করলে রাজি না হওয়ায় ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করা হয়। আত্মরক্ষায় ঘুরে গেলে পিঠে দুটি ছুরিকাঘাত লাগে এবং গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, স্বামীর নির্যাতনে তিনি চরম আতঙ্কে আছেন এবং যে কোনো সময় জানমালের ক্ষতি হতে পারে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি থানার আশ্রয় নিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে শ্রীপুর মডেল থানার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।