দিলীপ সরকার,শ্রীপুর, গাজীপুর প্রতিনিধিঃ বর্ষা এলেই যেন মরণফাঁদে পরিণত হয় গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার বর্মী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের তাঁতিসুতা গ্রামের প্রধান চলাচলের রাস্তাটি। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে রাস্তাটির বর্তমান অবস্থা এতটাই খারাপ যে, সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তাজুড়ে গভীর গর্ত, কাদা আর জমে থাকা পানি। রিকশা, ভ্যান তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাচল করতেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী ও কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
রাস্তার দুই পাশে ঘন ঝোপঝাড় আর মাঝখানে বিস্তীর্ণ কাদাময় রাস্তা। বৃষ্টির পানি জমে সেখানে ছোটখাটো খালের সৃষ্টি হয়েছে। গাড়ির চাকার দাগে পুরো রাস্তা আরও বেশি নাজুক হয়ে পড়েছে।
জনদুর্ভোগ চরমে, তাঁতিসুতা গ্রামের বাসিন্দারা জানান, এই রাস্তা দিয়েই তাঁরা বর্মী বাজার, শ্রীপুর সদর এবং আশপাশের কয়েকটি গ্রামে যাতায়াত করেন। কিন্তু বছরের ৬ মাসই এই অবস্থা থাকে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “বর্ষাকালে এখান দিয়ে হাঁটা যায় না। বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারে না, কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেয়া যায় না। ভ্যান-অটোওয়ালারা ভাড়া বেশি চায়, তবুও আসতে চায় না। আমরা কবে যে একটা পাকা রাস্তা পাবো আল্লাহই জানেন।
আরেকজন কৃষক বলেন, “আমাদের ফসল মাঠ থেকে বাজারে নিতে পারি না। কাদার কারণে অর্ধেক ফসল নষ্ট হয়ে যায়। বারবার ইউপি চেয়ারম্যান আর মেম্বারকে বলেও কোনো লাভ হয়নি।”
প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা- এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা রাস্তা পাকা করার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর খোঁজ নেন না। বর্মী ইউনিয়ন পরিষদ এবং শ্রীপুর উপজেলা প্রশাসনের কাছে তাঁতিসুতা গ্রামবাসীর দাবি, দ্রুত রাস্তাটি পাকা বা অন্তত ইট-বালু দিয়ে সংস্কার করে তাঁদের দুর্ভোগ লাঘব করা হোক।
এ বিষয়ে বর্মী ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করিলেও তিনি তেমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি
স্থানীয়দের দাবি, উন্নয়নের এই সময়ে এসেও একটি গ্রামের মানুষ যদি রাস্তার অভাবে এভাবে কষ্ট করে, তাহলে তা সত্যিই দুঃখজনক। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপই পারে তাঁতিসুতা গ্রামের মানুষকে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে।