আব্দুল্লাহ বাশার, কোটচাঁদপুরঃ চলাচলের রাস্তার জমি নিজেদের দাবি করে প্রতিবেশির গরুর গোয়াল ও বাড়ির সিমানা প্রাচীর ভাংচুর করাসহ সড়কের মাঝে শৌচাগার তৈরির ঘটনা ঘটেছে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে।
গত ২৪ শে এপ্রিল শুক্রবার সন্ধ্যার পর উপজেলার জালালপুর গ্রামে যুবলীগ নেতা ইউপি সদস্য মো,সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে একই গ্রামের গফুর, লেন্টু, জামির, লিটনসহ আরো ১০ থেকে ২০ জন, দেশি অস্ত্র শাবল, দা ও লোহার রড নিয়ে হামলা করে জমির মালিক মো, মাসুম বিল্লাহার বাড়ির সীমানা প্রাচীর, গরুর গোয়াল ও টিউবওয়েল ভাংচুর করে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে।
ভাংচুরের ঘটনায় ২৫ শে এপ্রিল শনিবার জমির মালিক মাছুম বিল্লা লিখিত অভিযোগ করেছে কোটচাঁদপুর মডেল থানায়।
ভাংচুরকারীদের দাবি ওই জমি তাদের। যদিও দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিটি মানুষ চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। হঠাৎ করে জুলাই ’২৪ পরবর্তী সময়ে জমিটি মালিকানা দাবি করেন রুবেল মন্ডল।
রুবেল মন্ডলের স্ত্রী কল্পনা জানান এই জমি এখন আমাদের যে কারণে রাস্তা বন্ধ করতে শৌচাগার তৈরি করা হয়েছে।
রুবেলের পিতা আবদার মন্ডল জানান বর্তমান ম্যাপে রাস্তা আমাদের মধ্যে সে কারণে রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে পাশের জমির মালিককে বার বার বলা হয়েছে তাদের প্রাচীর ভেংগে রাস্তার জায়গা ছেড়ে দিতে, তারা ছেড়ে না দেয়ার কারণে গ্রামের মেম্বরের উপস্থিতিতে পাড়ার লোকজন ওই প্রাচীর ভেংগে দিয়েছে।
কুশনা ইউনিয়নের জালালপুরের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো,সাইফুল ইসলাম জানান, চলাচলের স্বার্থে পাড়ার লোক জন নিয়ে আমার উপস্থিতিতে সিমানা প্রাচীর সহ অন্যান্য সব ভাংচুর করে রাস্তা বের করা হয়েছে। স্থাপনা ভেঙ্গে জোরপূর্বক পরের জায়গা দিয়ে রাস্তা করতে পারেন কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসলে জনগণের স্বার্থে এটা করা হয়েছে এটা করা অন্যায় তারপরও কি করব যারা ওখানে উপস্থিত ছিল তারা ভেঙে ফেলেছে ভেঙে ফেলে ভুলই করেছে।
ভুক্তভোগী মাসুম বিল্লাহর মা নিলুফা জানান শুক্রবার সন্ধ্যার পর আমাদের বাড়িতে কেউ ছিলেন না। হঠাৎ করেই ২০-২৫ জনের একদল লোক এসে আমাদের বাড়িতে হামলা করে গরুর গোয়াল, প্রাচীর, টিউবওয়েল ভাংচুর করেছে।
স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায় জালালপুর ধোপাপাড়ার ওই রাস্তাটি দীর্ঘদিন যাবত ওই পাড়ার লোকজন ব্যবহার করতেন ২০১৬ সালে রাস্তাটি ইটের সোলিং করা হয়। ২০২৪ সালের জুলাই পরবর্তী সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে পাকা রাস্তাটি বন্ধ করে তার উপর শৌচাগার তৈরি করা হয়।
ভুক্তভোগী মাসুম বিল্লাহ জানান ওই রাস্তাটি কোন সরকারি রাস্তা না, পাড়ার লোকজনের চলাচলের জন্য আমরা ২ ফিট জায়গা ছেড়ে দিয়েই প্রাচীর দিয়েছিলাম, এখন তারা জোর করেই আমার প্রাচীরসহ রান্নাঘর, গোয়ালঘর ও টিউওয়েল ভেংগে দিয়েছে।
অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে কোটচাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদউজ্জামান জানান, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তদন্তের পর আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।