কুমিল্লার প্রতিনিধি: কুমিল্লার দেবিদ্বারে এক পুলিশ সদস্যকে আটকে রেখে মারধর ও ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্ত দু'জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন দেবিদ্বার থানার ওসি শামসুদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াছ।
অভিযুক্তরা হলেন - তাছলিমা আক্তার (২৮), পিতা-হারুনুর রশিদ, গ্রাম-বুড়িরপাড় (ভোলা হাজী বাড়ি)। আমেনা বেগম (৪৫), স্বামী-ফিরোজ মিয়া, গ্রাম-বুড়িরপাড় (হাজী বাড়ি), উভয় ডাকঘর-সুবিল, ০৪নং সুবিল ইউপি। হেলাল খান (২৮)। কামাল (৩২), উভয় পিতা-মৃত দৌলত খান, গ্রাম-গুনাইঘর ইকরানগর)। বিল্লাল হোসেন প্রকাশে বিল্লু (৩০), পিতা-ইসমাইল হোসেন, গ্রাম-ছোট আলমপুর। জালাল প্রঃ কানা জালাল (৩০), পিতা-আবু মিয়া প্রঃ আবু তাহের, গ্রাম-চাপানগর। সর্ব থানা-দেবিদ্বার, জেলা-কুমিল্লা সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন। অভিযুক্ত প্রধান বিল্লাল হোসেন বিল্লু উপজেলার আলমপুরের ইসমাইল হোসেনের ছেলে এবং দেবিদ্বার পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের বিলুপ্ত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানাগেছে। মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দু'জন হলেন—৪নং সুবিল ইউনিয়নের বুড়িরপাড় এলাকার তাসলিমা আক্তার এবং হেলাল খান।
মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্য আবু কাউছারের স্ত্রী ইশরাত জাহান জানান, তার স্বামী বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানায় কর্মরত। পাঁচ বছর আগে তিনি প্রথম স্ত্রী তাসলিমা আক্তারের সঙ্গে বিচ্ছেদ করেন। ১ অক্টোবর দেবিদ্বার উপজেলার ছোট আলমপুর এলাকায় জমি দেখানোর কথা বলে স্বামীকে ডেকে নেয় তার চাচি আমেনা বেগম। জমি দেখার পর কথাবার্তা চূড়ান্ত করার কথা বলে পার্শ্ববর্তী একটি মাদরাসার পঞ্চম তলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাসলিমা, আমেনা, হেলাল, কামাল, বিল্লু ও জালাল মিলে আবু কাউছারকে আটকে রেখে মারধর করেন। তার কাছে থাকা ১৩ হাজার টাকা ও একটি স্বর্ণের আঙটি নিয়ে নেওয়া হয়। এরপর দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হলে বিকাশের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা আদায় করে তিন ঘণ্টা পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ইশরাত জাহানের দাবি, আবু কাউছার তার প্রথম স্ত্রীকে ২০ লাখ টাকা কাবিনে পুনর্বিবাহে অস্বীকৃতি জানানোর কারণেই এই নির্যাতন ও চাঁদাবাজি হয়।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা বিল্লু বলেন, “পুলিশ সদস্য আবু কাউছারকে তার প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে দেখার পর এলাকার ছেলেরা আটক করে। আমি গিয়ে জানতে পারি তিনি পুলিশ। তখন আমি সেখান থেকে চলে আসি। অহেতুক আমাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। "কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এএফএম তারেক মুন্সী বলেন, ‘বিল্লাল হোসেন বিল্লু দেবিদ্বার পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক । শুনেছি তিনি আসন্ন কাউন্সিলে সভাপতি পদপ্রার্থী। তবে চাঁদাবাজির মামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’ দেবিদ্বার থানার ওসি শামসুদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, পুলিশ সদস্যের স্ত্রী কর্তৃক দায়ের করা মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামীদের ধরতে অভিযান চলমান রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তারদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।