এ আর সাইফুল ইসলামঃ রাজনৈতিক ব্যস্ততা, কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মাঝেই হঠাৎ থেমে গেল দুটি জীবন। একই রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন ঢাকার মহাখালী করাইল বেলতলা এলাকার পরিচিত মুখ এ আর জিয়া (৪৫) এবং তাঁর সহপাঠী ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযাত্রী নিজাম (৫০)।(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় এশার নামাজের পর এ আর জিয়া ও তাঁর সহপাঠীরা একসঙ্গে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন। মিলাদ শেষে তারা কিছু সময় একত্রে কাটান এবং রাতের খাবার (বিরিয়ানি) খান।
খাবার শেষে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে এ আর জিয়া, নিজাম, খুরুম (৫০) ও আরও কয়েকজন সহপাঠী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনৈতিক আলোচনা ও কর্মসূচির অংশ হিসেবে মহাখালী টিঅ্যান্ডটি মাঠে যান। সেখানে তারা ঢাকা–১৭ আসনকে কেন্দ্র করে তারেক রহমানের রাজনৈতিক কৌশল, নির্বাচনী পরিস্থিতি ও দলীয় ব্যস্ততা নিয়ে আলোচনা করছিলেন বলে জানান উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি।
ঘটনার ধারাবাহিকতা
সন্ধ্যা: এশার নামাজের পর মিলাদ ও দোয়া মাহফিল
রাত ৯:০০টা: খাবার শেষে মহাখালী টিঅ্যান্ডটি মাঠে যাত্রা
রাত ৯:১০–১০:১৫টা: এ আর জিয়ার হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়
তাৎক্ষণিকভাবে: তাঁকে মহাখালী এলাকার বক্ষব্যাধি হাসপাতালে নেওয়া হয়
পরবর্তীতে: সেখান থেকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে রেফার করা হলে পথেই তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে।
রাত আনুমানিক ১:৫০ মিনিট: হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে পৌঁছানোর আগেই এ আর জিয়া ইন্তেকাল করেন
সহপাঠীর মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন নিজাম
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিজের চোখের সামনে প্রিয় সহপাঠী ও দীর্ঘদিনের সঙ্গী এ আর জিয়াকে মৃত্যুর সঙ্গে লড়তে দেখে নিজাম গভীর মানসিক আঘাতে ভেঙে পড়েন। এ আর জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি ও মৃত্যুসংবাদ নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই তিনি অস্বাভাবিকভাবে অসুস্থবোধ করতে থাকেন।
দু’জনের বাড়ি একই সড়কে হওয়ায় পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। গভীর শোক, মানসিক চাপ ও আতঙ্কের মধ্যেই রাত আনুমানিক ৩টার দিকে মহাখালী আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিজাম নিজেও হার্ট অ্যাটাক হয়ে ইন্তেকাল করেন।
একই রাতে দুই সহপাঠীর এমন আকস্মিক মৃত্যু মহাখালী–করাইল–বেলতলা এলাকায় নেমে আনে গভীর শোক, স্তব্ধতা ও নিস্তব্ধ কান্না।
“ভিডিও দিও ভাই”—শেষ অনুরোধ, শেষ স্মৃতি
কিছুদিন আগেই এ আর জিয়া জিয়া উদ্যানে বিএনপির একটি কর্মসূচিতে অংশ নেন। সে সময় তাঁর হাতে ছিল ব্যানার—
“৪৫তম কৃষক দলের শুভ জন্মদিন উপলক্ষে জিয়ার মাজার জিয়ারত।”
সেদিন তাঁকে দেখা যায় ভীষণ উচ্ছ্বসিত, কর্মচঞ্চল ও আশাবাদী।
সেই দিনই শেষবারের মতো তাঁর কণ্ঠে শোনা যায়—
“ভাই, ভিডিও করো… আমাদের অনেক প্রোগ্রাম আছে… সাইফুল ভাই, ভিডিও দিও।”
আজ সেই কথাগুলোই রয়ে গেল জীবনের শেষ স্মৃতি হয়ে।
মরহুম এ আর জিয়া (৪৫) গ্রামের বাড়ি: ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলা
বসবাস: ঢাকা, মহাখালী করাইল বেলতলা পরিবার: দুই ছেলে ও এক মেয়ে বড় ভাই দুই বছর আগে ইন্তেকাল করেছেন মা–বাবা কেউ জীবিত নেই
মরহুম নিজাম (৫০) গ্রামের বাড়ি: মির্জাপুর গ্রাম, থানা আটপাড়া,সহপাঠী ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযাত্রী
এ আর জিয়া বিএনপির কোনো আনুষ্ঠানিক পদে না থাকলেও দলীয় কর্মসূচিতে নিয়মিতভাবে সক্রিয় ও সম্পৃক্ত ছিলেন। সহকর্মীরা জানান, তিনি ছিলেন অত্যন্ত অমায়িক, পরিশ্রমী ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন একজন মানুষ। তিনি ছিলেন জাকের ভাই ও আশেকে রাসূল—ধর্মভীরু ও মানবিক গুণাবলিতে সমৃদ্ধ।
শোকবার্তা
মহান আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া—
তিনি যেন মরহুম এ আর জিয়া ও নিজামকে ক্ষমা করেন, তাঁদের সকল গুনাহ মাফ করে দিয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।
শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করুন—আমিন।